স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার প্রধান কারণ ও প্রতিকার

 স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার প্রধান কারণ ও প্রতিকার ।


স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার প্রধান কারণ ও প্রতিকার


স্মার্টফোন একটি ছোট কম্পিউটারের মতো কাজ করে। যখন এর প্রসেসর বা র‍্যামের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তখনই ফোনটি রেসপন্স করা বন্ধ করে দেয়, যাকে আমরা 'হ্যাং হওয়া' বলি।


১. র‍্যাম (RAM) এর ওপর অতিরিক্ত চাপ:

ফোনের র‍্যাম হলো অস্থায়ী মেমোরি যা অ্যাপ চালাতে সাহায্য করে। আমরা যখন একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ ওপেন করি এবং সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে, তখন র‍্যাম পূর্ণ হয়ে যায়। এবং ফোন স্লো কাজ করা শুরু করে ।
নিয়মিত ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো বন্ধ করুন। ফোনের 'Recent Apps' অপশন থেকে সব ক্লিয়ার করে রাখলে প্রসেসর ফ্রিতে কাজ করতে পারে।

স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার প্রধান কারণ ও প্রতিকার


২. ইন্টারনাল স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে যাওয়া:

স্মার্টফোনের মেমোরি বা স্টোরেজ যদি ৮০-৯০% পূর্ণ হয়ে যায়, তবে ফোন স্বাভাবিকভাবেই স্লো হয়ে যায়। অপারেটিং সিস্টেম চলার জন্য কিছুটা খালি জায়গা বা 'ক্যাশ মেমোরি'র প্রয়োজন হয়।
তাই ফোন থেকে অপ্রয়োজনীয় ফটো, ভিডিও বা বড় ফাইল ডিলিট করুন। ফোনের সেটিংস থেকে 'Storage' অপশনে গিয়ে 'Cached Data' ক্লিয়ার করুন। মাসে অন্তত একবার ফোন থেকে অপ্রয়োজনীয় ডেটা পরিষ্কার করা উচিত। তাতে ফোন আগের চাইতে অনেক দ্রুত হবে ।

ফোনে ইন্টারনাল স্টোরেজ পূর্ণ হওয়ার ফল


৩. ভারী অ্যাপ ও গেম ব্যবহার:

আপনার ফোনের কনফিগারেশন যদি কম হয় (যেমন: ২ বা ৩ বা ৪জিবি র‍্যাম), আর আপনি যদি সেখানে পাবজি বা ফ্রি-ফায়ারের মতো ভারী গেম খেলেন, তবে ফোন হ্যাং হবেই।
এজন্য ফোনের সক্ষমতা অনুযায়ী অ্যাপ ব্যবহার করুন। ফেসবুক বা মেসেঞ্জারের মতো অ্যাপগুলোর 'Lite' ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন, যা ফোনের ওপর চাপ কমায়।

মোবাইল ফোনে ভারী অ্যাপ ও গেম ব্যবহার করার ফল


৪. সফটওয়্যার আপডেট না করা:

অপারেটিং সিস্টেম বা অ্যাপের পুরনো ভার্সনে অনেক সময় 'বাগ' বা ত্রুটি থাকে যা ফোনের গতি কমিয়ে দেয়। কোম্পানিগুলো নিয়মিত আপডেট পাঠিয়ে এই সমস্যাগুলো সমাধান করে।
এ সমস্যাগুলো এড়াতে ফোনের সেটিংস থেকে নিয়মিত 'Software Update' চেক করুন এবং লেটেস্ট ভার্সন ব্যবহার করুন। একইভাবে প্লে-স্টোর থেকে সব অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখুন।আশা করছি ফোন হ্যাং হবে না ।

ফোনে সফটওয়্যার আপডেট না করার অসুবিধা vs সুবিধা



৫. ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার:

অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে কোনো ফাইল বা অ্যাপ ডাউনলোড করলে ফোনে ভাইরাস ঢুকতে পারে। এই ভাইরাসগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রসেসর ব্যবহার করে ফোনকে গরম এবং হ্যাং করে ফেলে।
শুধুমাত্র গুগল প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। ফোনের ব্রাউজারে পপ-আপ বা অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। থার্ড পার্টি এপস ব্যবহার না করাই ভালো ।

ফোনে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আক্রমণ ও সমাধান


৬. ফোন গরম হয়ে যাওয়া (Overheating)

ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে প্রসেসর নিজের সুরক্ষার জন্য পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়। এতে ফোন ল্যাগ বা হ্যাং করে। রোদে বা চার্জে থাকা অবস্থায় ভারী কাজ বা গেম খেলা থেকে বিরত থাকুন। ফোনের কভার খুব বেশি মোটা হলে বাতাস চলাচলের জন্য মাঝে মাঝে খুলে রাখতে পারেন।
ফোন খুব বেশি হ্যাং করলে সপ্তাহে অন্তত একবার ফোনটি রিস্টার্ট বা রিবুট করুন। এতে ফোনের সিস্টেম রিফ্রেশ হয়

স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার প্রধান কারণ ও প্রতিকার


৭. অ্যানিমেশন অফ করুন: 

ফোনের 'Developer Options' থেকে অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে দিলে ফোন অনেক বেশি ফাস্ট মনে হয়।

স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার প্রধান কারণ ও প্রতিকার



৮.ফ্যাক্টরি রিসেট: 

যদি কোনোভাবেই সমস্যার সমাধান না হয়, তবে প্রয়োজনীয় সব ডেটা ব্যাকআপ রেখে ফোনটি 'Factory Reset' দিন। এতে ফোনটি একদম নতুন অবস্থার মতো হয়ে যাবে। আগের মত ফাস্ট হবে ।

স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার প্রধান কারণ ও প্রতিকার


উপসংহার:

স্মার্টফোন হ্যাং হওয়া রুখতে নিয়মিত মেইনটেন্যান্স বা যত্ন নেওয়া জরুরি। সচেতনভাবে অ্যাপ ব্যবহার এবং স্টোরেজ খালি রাখলে একটি সাধারণ ফোনও বছরের পর বছর স্মুথলি চালানো সম্ভব।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.